All, ছোট লিখা

অনুভুতির ডায়েরিঃ পর্ব-১

মেঘলা আকাশ যেন আজ কেঁদেই দিবে, হয়তো মনকে আজ ভিজিয়ে দিবে। হয়তো স্মৃতিগুলো আজ নতুন রূপে সজীব প্রান্তরে কোন এক অজানা বেশে দেখা দিবে। শরতের সেই মায়ের ডাক, ঢাকের তালে মায়ের নৌকা ভ্রমন, দিনগুলো আজও কাশফুলের কোমল স্পর্শে মুখরিত হয়ে বুকের বাম পাঁশটায় হাল্কা সুড়সুড়ি দেয়। সময় বদলায়, জীবনও পালটায়, কিন্তু নতুন সাঁজ নেয় না শুধু আলতো করে মাখা হৃদয়ের সাথে লেগে থাকা অনুভূতিগুলো। হয়তো মুহুর্তগুলোর স্মৃতিচারনাই আমার এই অলিখিত সাহিত্যের সার্থকতা। শব্দগুচ্ছোতো সকলেরই মন ভেদ করে। কিন্তু, অলিখিত সেই সাহিত্যের ভাব কে-ই বা জানতে চায়, লুকিয়ে থাকা ভালোবাসার খবর কোন পত্রিকায় ছাপা যায়! কে জানে হয়তো ভাবের প্রকাশ মাঝে মাঝে অশ্রুর চেয়েও বেশি মূল্যবান। অজানা সেই রুদ্ধদ্বার, ভিজে বালিশের আস্তানা খুজতেই আজ ডায়েরির পাশে আমি, কলম হাতে তবু ছল ছল দু চোখ। ভাবনাগুলো কিংবা ভালোবাসার গল্পগুলো কাগজের পাতায় কালির দাগে কিছুটা হলেও কলঙ্ক মুছবে।

সপ্তমীর সকাল।আকাশের আজ প্রচন্ড মন খারাপ। কিন্তু তার চোখে জল নেই যে! অশ্রুর ধারা কি তার কথা অমান্য করল? মৃদু হাওয়া যে কখন তার বেগ পরিবর্তন করলো খেয়াল-ই করিনি। বাতাসের ঝাঁপটায় মুখের চারপাশ ধুলোদের বাসস্থানে রূপ নিল। বুঝা গেল অনতিবিলম্বে যদি ছাঁদ ত্যাগ না করি হতে পারে মায়ের বিদায়ের আগেই আমার মায়ের হাতে ঝাটুনি খেয়ে আমার বিদায় নেয়া লাগবে। এদিকে নিচ থেকে তলব পড়েও গেল। তাড়াতাড়ি স্নানটা সেড়ে নতুন পাঞ্জাবীর ভাঁজটা খুলতেই মনে পড়ল এ বছর তো পাঞ্জাবী কেনা হয় নি, তো আমার খাটে এইটা কে রাখল? ব্যাস, ভাবতে না ভাবতেই মহারাণীর ফোন কল। “পাঞ্জাবীটা পছন্দ হলো?”, ওপাশ থেকে রমনীর মিষ্ট সুরের রসের গঙ্গা বায়িয়ে দিল। “হ্যাঁ, কিন্তু……” আমার উত্তরের পাত্তা না দিয়েই উনি তার প্রবন্ধ শুরু করলেন। কি ছিল সেই প্রবন্ধ তা লিখতে গেলে আমার কানের যেমন বারোটা বেজেছিল তেমনি পাঠকেরও চোখের তেরোটা বাজবে। তাই আর ওদিকে না যাওয়াই আমার সাহিত্য এবং পাঠকের মেজাজের জন্য মঙ্গলজনক। যাই হোক কলটি কাটার শেষ মুহুর্তে শুধু এইটুকুই বুঝতে পারলাম অঞ্জলির সময় হয়েছে, তাড়াতাড়ি মন্ডপে যাওয়ার জন্য ডাক পড়েছে। যতক্ষনে আমি মন্ডপে উপস্থিত ততক্ষনে আমাকে বলিদানের সকল ব্যবস্থা পাকাপুক্ত হয়ে গেছে।  চন্ডিকা রূপে মহারানী আমার দিকেই তেড়ে আসছে। চারদিক লাভা বর্নে রূপ নিয়েছে। রুদ্রকালির খড়গ আমার গলা ছেদের পুর্বেই কল্পনা জগতের নিঃশ্বেস ঘটল। তার কোমল হাত আমার শ্বাস রুদ্ধকর অবস্থার সৃষ্টি করেছে। নারীর রাগ সর্বশেষ পর্যায় উপনীত হওয়ার পূর্বেই মাপ চেয়ে নেয়াতেই পুরুষ জাতির মঙ্গল। “অঞ্জলির প্রথম পর্ব শেষ হয়ে গেল। এখন তোমার আসার সময় হলো? আমার ডাকের চেয়ে তো তোমার ঘুমের মর্ম বেশি।” মহারাণীর কথা শুনতেই অনুভব করলাম আসলেই ঘুমের মর্ম আমার মতো উচ্ছৃঙ্খল তরুনের সকল কামনাকে হার মানাবে।…………….. To Be Continued

Facebook Comments